দিল্লির বৈঠকে বাড়ল জল্পনা: কংগ্রেসের সঙ্গে কি নতুন সমঝোতার পথে তৃণমূল?


গত পনেরো বছরে যে কংগ্রেসকে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছিলেন, এখন কি সেই কংগ্রেসের 'দুয়ারে' দাঁড়িয়ে রাজনীতিতে ভেসে থাকতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়? 
জঙ্গিপুর, জিয়াগঞ্জ, বেলডাঙা, ধুলিয়ান--এই চারটা পুরসভায় একসময়, একজনও কাউন্সিলর ছিল না তৃণমূলের। কিন্তু, দল ভাঙিয়ে রাতারাতি সবকটি পুরসভার দখল নিয়েছিল তৃণমূল। দু-হাজার তেরোর পঞ্চায়েত নির্বাচনে মালদা আর মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ জিতেছিল কংগ্রেস। পরবর্তীতে, এই জেলা পরিষদ দুটো দখল করে নিয়েছিল তৃণমূল। আর এরমধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদে তো কংগ্রেস বিয়াল্লিশটি আসন পেয়েছিল। আর তৃণমূল এক। তারপরও কংগ্রেস ভাঙাতে ভাঙাতে গোটা জেলা পরিষদটাই দখল করে নিয়েছিল তৃণমূল। গত পনেরো বছরে যে কংগ্রেসকে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছিলেন, এখন কি সেই কংগ্রেসের 'দুয়ারে' দাঁড়িয়ে রাজনীতিতে ভেসে থাকতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়? 
একের পর এক ঝড়ে দিশা হারিয়ে কি ফের কংগ্রেসেই ফিরবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়? মঙ্গলবার মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ১০ জনপথে গিয়ে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন! আর বুধবার সেখানে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তবে প্রদেশ কংগ্রেসে এনিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। আজ দিল্লিতে সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সদর দফতরে বিশেষ আলোচনা সভার ডাক দিয়েছে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং আজই হতে পারে জল্পনার অবসান ।


এটা সুন্দর করে নিউজ প্রতিবেদন তৈরি করে দিন 

কংগ্রেসকে দুর্বল করার রাজনীতি থেকে কি এবার কংগ্রেসের সঙ্গেই সমীকরণ? জল্পনায় মমতা-সনিয়া বৈঠক
নিজস্ব সংবাদদাতা:
গত দেড় দশকে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সংগঠনকে দুর্বল করতে তৃণমূল কংগ্রেস যে ধারাবাহিক রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লিতে তৃণমূল সুপ্রিমো Mamata Banerjee-র সঙ্গে Sonia Gandhi-র বৈঠক এবং পরদিন Abhishek Banerjee-র সঙ্গে Rahul Gandhi-র সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, একসময় যে কংগ্রেসকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাংগঠনিকভাবে কোণঠাসা করা হয়েছিল, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই কংগ্রেসের সঙ্গেই কি নতুন সমীকরণের পথে হাঁটছে তৃণমূল?

মুর্শিদাবাদ ও মালদার রাজনৈতিক ইতিহাসে নজর দিলে দেখা যায়, একসময় জঙ্গিপুর, জিয়াগঞ্জ, বেলডাঙা এবং ধুলিয়ানের মতো একাধিক পুরসভায় তৃণমূলের কোনও নির্বাচিত কাউন্সিলর ছিল না। কিন্তু পরবর্তীকালে দলবদল এবং রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ওই পুরসভাগুলির নিয়ন্ত্রণ তৃণমূলের হাতে চলে আসে।

শুধু পুরসভাই নয়, ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে Indian National Congress মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল। বিশেষত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদে কংগ্রেস ৪২টি আসন লাভ করেছিল, যেখানে তৃণমূলের ঝুলিতে ছিল মাত্র একটি আসন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে একের পর এক রাজনৈতিক ভাঙনের মাধ্যমে জেলা পরিষদের ক্ষমতাও তৃণমূলের দখলে চলে যায়।

এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—যে কংগ্রেসকে দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল করে তৃণমূল নিজেদের সংগঠন বিস্তার করেছিল, আজ কি সেই কংগ্রেসের সঙ্গেই সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রয়োজন অনুভব করছে রাজ্যের শাসকদল?

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী ঐক্যের সমীকরণ, কেন্দ্রীয় রাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং আগামী নির্বাচনী লড়াইয়ের কৌশলগত প্রয়োজন থেকেই এই ঘনিষ্ঠতা বাড়তে পারে। অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেসের একাংশ ইতিমধ্যেই এই বৈঠকগুলি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও রাজনৈতিক সূত্রের দাবি।

এদিকে, আজ দিল্লিতে Indian National Congress-এর সদর দফতরে শীর্ষ নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেই বৈঠকের দিকেই। কারণ, সেখান থেকেই তৃণমূল-কংগ্রেস সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিশা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট বার্তা মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা কংগ্রেসের তরফে সম্ভাব্য কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে জল্পনা যতই তীব্র হোক, চূড়ান্ত উত্তর পেতে রাজনৈতিক মহলকে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতেই হবে।

Comments

Popular posts from this blog

তোলাবাজির অভিযোগে FIR, তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

কলকাতায় ব্রাজিল! ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের জল্পনা তুঙ্গে

অভিষেককে ঘিরে বিমানবন্দরে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ