বাংলার মাটিতে মোদীর মেগা মিশন
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম রাজ্য সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দু’দিনের এই সফরে উন্নয়ন, কৃষি, অবকাঠামো, মৎস্য, পশুপালন থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক যোগ দিবস— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
শুক্রবার বিকেলে হুগলির তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রায় ৫৯০ কোটি টাকার রেল প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী। হাওড়ার সাঁকরাইল-সাঁতরাগাছি লিঙ্ক লাইন প্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি ৩০০ শয্যার নতুন রেল হাসপাতাল এবং পূর্ব মেদিনীপুরের হাউর-রাধামোহনপুর রেল ওভারব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।
একই মঞ্চ থেকে উদ্বোধন হবে ৪৯টি প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার রাস্তা প্রকল্পের। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা, যার আওতায় প্রায় ৫০ লক্ষ কৃষক উপকৃত হবেন। ডিজিটাল অ্যাগ্রিকালচার মিশন, অ্যাগ্রি স্ট্যাক, প্রাকৃতিক চাষ সংক্রান্ত জাতীয় মিশন এবং প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনারও সূচনা করবেন তিনি।
পিএম-কিষাণ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৯.৪৪ কোটিরও বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে ১৮,৮৮০ কোটি টাকা পাঠানো হবে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৪৫ লক্ষের বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে ৯০০ কোটিরও বেশি টাকা।
মৎস্য ও পশুপালন ক্ষেত্রেও একাধিক আধুনিক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জে আধুনিক মৎস্যবন্দর, বীরভূমের সাঁইথিয়ায় আধুনিক মাছ বাজার এবং নদিয়ার হরিণঘাটায় পূর্ব ভারতের প্রথম ছাগলের বীর্য উৎপাদন গবেষণাগার ও সিমেন ব্যাঙ্ক চালু হবে তাঁর হাত ধরে।
২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতার রেড রোডে জাতীয় অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ‘Yoga for Healthy Ageing’ থিমকে সামনে রেখে হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি ভাষণও দেবেন।
সফরের শেষ পর্বে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরে ভারতীয় নৌসেনার জন্য নির্মিত তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ— আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক এবং আইএনএস অগ্রয়— দেশের উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন প্রধানমন্ত্রী। কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সে নির্মিত এই জাহাজগুলির মাধ্যমে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর প্রতিরক্ষা শক্তি আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Comments
Post a Comment