বারুইপুর কাণ্ডে এনকাউন্টারে মৃত্যু অভিযুক্ত প্রভাসের, মৃতদেহ নিতেও অস্বীকার মায়ের
বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণের জন্য তাকে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ আচমকা এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে তদন্তকারী দলকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে সে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
এনকাউন্টারের পর পুলিশ প্রভাসের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেহ হাসপাতালে রাখা রয়েছে বলে জানায়। তবে মৃতদেহ গ্রহণ করতে স্পষ্ট অস্বীকার করেন অভিযুক্তের মা। তাঁর বক্তব্য, ছেলে যে জঘন্য অপরাধ করেছে, তার পরিণতিই সে ভোগ করেছে। নির্যাতিতার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তাঁর ছেলের জন্য আলাদা করে কোনও আক্ষেপ নেই বলেও জানান তিনি।
এর আগেও ছেলে গ্রেফতার হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তার কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছিল। সেই অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেননি প্রভাসের মা। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সন্তানকে হারানোর কষ্ট একজন মায়ের থাকবেই, কিন্তু তিনি হাসপাতালে গিয়ে মৃতদেহ দেখতে চান না। তাঁর অভিযোগ, ছেলে নেশাগ্রস্ত ছিল, কখনও পরিবারের কথা শোনেনি। পুলিশ পরিচয়পত্র চাইলেও সেটি কোথায় রয়েছে তাও তাঁর জানা নেই। তাই দেহ নিয়ে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা পুলিশকেই করতে বলেছেন তিনি।
এই ঘটনায় অভিযুক্তের মায়ের প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে ছেলেকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে তার অপরাধের জন্য প্রকাশ্যেই কঠোর অবস্থান— এই দুইয়ের মিশ্র প্রতিক্রিয়া সমাজজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
Comments
Post a Comment